লিনাক্স কি? লিনাক্স কিভাবে কাজ করে, সিকিউরিটি দিক থেকে কে এগিয়ে আছে লিনাক্স নাকি উইন্ডোজ, লিনাক্স এবং উইন্ডোজের পার্থক্য, কোনটি ফাস্ট লিনাক্স নাকি উইন্ডোজ, কোনটি ব্যবহার করা নিরাপদ লিনাক্স নাকি উইন্ডোজ :
লিনাক্স কি
আপনি কম্পিউটার কোন কমান্ড দিলে মুহূর্তে সে কাজটি হয়ে যাচ্ছে। এটি এত সহজে কিভাবে সম্ভব হচ্ছে? অথচ এক সময় ব্যবহারকারীকে প্রতিটা কাজ নিজের হাতে প্রোগ্রাম করতে হতো আর এই কঠিন কে সহজ করে দিচ্ছে আপনার কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম।
অপারেটিং সিস্টেম হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর মধ্যে বীজের মতো কাজ করে। আপনারা সবাই উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের সাথে খুব ভালোভাবে পরিচিত। লিনাক্সও অপারেটিং সিস্টেম। তবে লিনাক্স থেকে কিছুটা ভিন্ন। উইন্ডোজ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম এবং সহজে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু উইন্ডোজ আপনাকে ফাইল নিয়ে কোন ধরনের সুযোগ দেয় না অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে উইন্ডোজের র্সোস কোডগুলো ওপেন না। ১৯৯১ সালে লিনাস টরভাল্ডস ডেপলপ করেন লিনাক্সের। এ ধরনের অপারেটিং সিস্টেম আগেও ছিলো, লিনাক্স এর আগের নাম ছিলো ইউনিক্স।
ইউনিক্স উপর ভিত্তি করে মূলত লিনাক্স এর গঠন। তবে ইউনিক্স ফ্রি ছিলো না, লিনাক্স ফ্রি। এরপর থেকে নানান পরিবর্তনের মাধ্যমে আজকের এই লিনাক্স।
লিনাক্স কিভাবে কাজ করে
লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের কোড হল লিনাক্স কার্নেল। এটি কম্পিউটারের হার্ডওয়ার প্রসেসিং এর মধ্যে ইন্টারফেস হিসেবে কাজ করে। এর উপর ভিত্তি করেই লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন গুলো কাজ করে। লিনাক্স ব্যবহার করতে গেলে আপনাকে যেকোন ডিস্টিবিউশন সিলেক্ট করে নিতে হবে। লিনাক্স এর অনেকগুলো ডিসট্রিবিউশন আছে। সেগুলো লিনাক্স ডিস্ট্রো নামে পরিচিত। তবে যতগুলো ডিসট্রিবিউশন আছে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে উবনটু। উবনটুর নাম হয়ত আপনি শুনে থাকবেন। এই ডিসট্রিবিউশন গুলো ওপেনসোর্স প্রজেক্টে থেকে কোড কালেক্ট করে কম্পাইন্ড করে একটি অপারেটিং সিস্টেম আপনার সামনে প্রেজেন্ট করে।

এক একটা ডিস্ট্রিবিউশনে হাজারেরও বেশি সফটওয়্যার থাকে। তবে লিনাক্স এর সুবিধা হলো এসব ডিস্ট্রিবিউশনের করে ব্যবহৃত সোর্স কোডে ব্যবহারকারীর নিজে পরিবর্তন আনতে পারে অর্থাৎ লিনাক্স একটি ওপেন সোর্স অপারেটিং।
লিনাক্স সিস্টেম কিভাবে ব্যতিক্রম বা উইন্ডোজের সাথে পার্থক্যগুলো কী কী
প্রথমত লিনাক্স একটি ওপেনসোর্স সফটওয়্যার। তার ইউজার নিজের ইচ্ছামত যে কোন সিস্টেম ফাইল এ পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু উইন্ডোজে আপনি সিস্টেমে কোন ধরনের চেঞ্জ আনতে পারবেন না। যেটা প্রোগ্রাম করে দিচ্ছে তার বাইরে যাওয়া একদমই সম্ভব না। লিনাক্স এ ফ্রিতে সার্পোট পাওয়া যায় যেটা পেতে হলে আপনাকে টাকা দিয়ে কিনতে হবে। উইন্ডোজে আপনাকে সবকিছু একটা প্যাকেজ হিসেবে দিয়ে দেওয়া হয় আপনি এই প্যাকেজের বিভিন্ন ভারসন বেছে নিতে পারবেন। কিন্তু কোন প্যাকেজের মধ্যে পরিবর্তন আনতে পারবেন না। অন্যদিকে লিনাক্সে বিভিন্ন রকম সফটওয়্যার অপশন আছে অর্থাৎ কাস্টমাইজ করে এপ্লিকেশনগুলোকে পরিবর্তন আনা সম্ভব।
উইন্ডোজে কাস্টমাইজেশনের অপসন একদমই কম। লিনাক্স কার্নেলের সোর্স কোডে ব্যবহারকারীর আকে্সস থাকে এবং তারা প্রয়োজন মত পরিবর্তন আনতে পারে। লিনাক্স এর একটি সুবিধা হলো : লিনাক্স খুব দ্রুত কাজ করে। এক্ষেত্রে সময় কম লাগে, প্রোগ্রাম রানিং এবং যে কোন লেভেলের প্রসেসকে থামানো যায় এবং কমান্ড চেঞ্জ করে ইস্যুগুলো ফিক্স করে নেওয়া যায় অর্থাৎ লিনাক্স কমপ্লিটলি একটি অপারেটিং সিস্টেম। কিন্তু কাজ করা অনেক সহজ অন্যদিকে উইন্ডো সিস্টেম ইউজ করা সহজ হলেও লিনাক্স এর তুলনায় এটি অনেক স্লো ইন্সটল ও সময় সাপেক্ষ। আবার উইন্ডোজের প্রোগ্রামে কোন সমস্যা হলে আমাদের পুরো সিস্টেমকেই রিবট অথবা রিসেট করতে হয়।
{ Seo কি? Seo কিভাবে করতে হয়? কেন করবেন – জানতে পোস্টটি পড়ুন }
আপডেট
আপডেটের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে লিনাক্সে আপডেট পাওয়া অনেক সহজ। কোন সমস্যা ছাড়াই যখন প্রয়োজন তখন আপডেট নেওয়া যায়। লিনাক্স এর আর একটি সুবিধা হল : লিনাক্স সিকিউরিটিতে বেশি ফোকাস করে। এখানে ভাইরাসের ঝামেলা একদমই কম নাই বললেই চলে এবং বাগ ফিক্স করা সহজ। এটি হ্যাক থেকেও বেশ সুরক্ষিত। লিনাক্স যে বেগ করা যায় না তা না তবে উইন্ডোজের তুলনায় কঠিন।
উইন্ডোজের ব্যবহার কারী যেমন বেশি ঠিক তেমনি ভাইরাস ও বেশি। প্রাইভেসির দিক থেকে লিনাক্সকে চােখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যায়। লিনাক্স ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করে না অপরদিকে উইন্ডোজের ব্যবহারকারী সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে। সিকিউরিটির জন্য বড় বড় অরগানাইজেশন গুলো লিনাক্স ব্যবহার করে থাকে। যেমন : গুগোল, অ্যামাজন, ওরাকল, আইবিএম, ফেসবুক, ডেল স্যামসাং, এমনকি শুনতে অবাক লাগলেও মাইক্রোসফট নিজেও লিনাক্স ব্যবহার করে। শুধু এটা শক্তিশালী নিরাপত্তার জন্য।
কেন উইন্ডোজের ব্যবহারকারী বেশি
তার একমাত্র কারণ হচ্ছে উইন্ডোজ ব্যবহার করতে খুব ইজি এবং ইন্সটল করার প্রসেসিং খুবই সহজ। তাই অপারেটিং সিস্টেমের দিক থেকে উইন্ডোজ আছে অনেক বেশি নিচের লেভেলে আর অন্যদিকে লিনাক্স ব্যবহারের জন্য টেকনিক্যাল জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
আমি জানি আজকের এই বিষয়টি অনেকের জন্য কঠিন হয়ে গিয়েছে। তবুও আপনাদের সাথে পরিচয় করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি : লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম কি, লিনাক্স কিভাবে কাজ করে এবং সিকিউরিটি দিক থেকে লিনাক্স উইন্ডোজে চেয়ে কতগুণ এগিয়ে আছে।