আজ আমরা জানবো : শরীরের দুর্গন্ধ কেন হয়, শরীরের দুর্গন্ধ দূর করার উপায়, গায়ের ঘামের গন্ধ দূর করার উপায়, গায়ের দুর্গন্ধ কেন হয় এসব প্রশ্ণ হয়ত অনেকের মনে আছে কিন্তু এর উওর কেউ জানেন না। তবে আজকে এর বিস্তারিত বিষয়টি আপনাদের মাঝে তুলে ধরার চেস্টা করবো।
অনেকের শরীর থেকে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ বের হয়ে যাওয়ার সময় অন্যের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শারীরিক দুর্গন্ধ কে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ব্রোবা হাইড্রোসিস বলা হয়। এটা মানব জীবনের একটা স্বাভাবিক অংশ হলেও মাত্রাতিরিক্ত দুর্গন্ধ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে। তাই সবাই শরীরের দুর্গন্ধ দূর করতে চায় তবে তার আগে জেনে নেওয়া যাক সাধারণত কী কী কারনে শরীরের দুর্গন্ধ হয়ে থাকে।
শরীরের দুর্গন্ধ কেন হয়
শরীরে অতিরিক্ত ওজন, মসলাদার ও কড়া স্বাদের খাবার, ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা, লিভার, রোগ প্রতিক্রিয়াশীল, থাইরয়েড বংশগত শারীরিক বা মানসিক চাপ ও অত্যাধিক ঘাম নিঃসরণ হলেই শরীরে দুর্গন্ধ দেখা যায়। হঠাৎ করে শারীরিক গন্ধে পরিবর্তন অনুভব করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এটা মারাত্মক রোগের লক্ষণ হতে পারে। আজকের আর্টিকেলে শরীরের দুর্গন্ধ দূর করার উপায় কিছু টিপস দিয়ে দিব। এই টিপস গুলো ফলো করলে আশা করি আপনি আর এই সমস্যায় ভুগবেন না বা আপনার শরীরের দুর্গন্ধ আগের থেকে হলেও কিছুটা কমে যাবে।
১ . নিয়মিত গোসল
প্রতিদিন কমপক্ষে ১ বার গোসল করলে শারীরিক দুর্গন্ধ কমে যাবে। গোসলের সময় সাবান বা শাওয়ার জেল ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে, দুর্গন্ধ প্রবণ স্থানে আবশ্যক উষ্ণ আদ্র পরিবেশে প্রতিদিন দুইবার গোসল করতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
২ . অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার
নিয়মিত গোসল করার পরও যদি শরীর থেকে দুর্গন্ধ নির্গত হয় তাহলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান অথবা বডি ওয়াশ অথবা বেনজাইল পারঅক্সাইড ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন।
৩ . পারফিউম ব্যবহার
বগলে কিংবা ঢেকে রাখার স্থানে ভালো মানের পারফিউম ব্যবহার হয়। বগলে উপযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করলেও দুর্গন্ধ কমে যাবে। পারফিউম ব্যবহার করলে বগলের পরিবেশ ব্যাকটেরিয়ার জন্য প্রতিকূল হতে পারে।
৪ . সুতির কাপড় পরিধান
শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে ফেব্রিক্স বা সুতির মতো বাতাস চলাচল করতে পারে এমন পোশাক পড়ুন। পলেস্টার, নাইলন তুলনায় কটনের মতো ন্যাচারাল ফেব্রিক্স ভালো। কটনের মতো কাপড়ে প্রাকৃতিক তন্তু বাতাস চলাচলের সুযোগ রয়েছে। যার ফলে ঘাম যেতে পারে।
৫ . লোম পরিস্কার করা
পরিষ্কার শরীরের যেসব স্থানে লোম বেশি সেখানে গ্রন্থ বেশি। যেমন বগল ও যৌনাঙ্গ। লোম গুলো ঘাম ধরে রাখে ও ব্যাকটেরিয়া বসবাসের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। তাই জীবিত লোম কেটে ফেললে শারীরিক দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
৬ . খাদ্যাভাস পরিবর্তন
সবথেকে বড় যে পদক্ষেপ সেটা হল খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা। ডায়েট থেকে মসলাদার খাবার অথবা কড়া স্বাদের খাবার বাদ দিয়ে খেতে পারেন। গবেষণায় দেখা যায়, যারা কড়া গন্ধের খাবার খেয়েছেন তাদের শরীর থেকে বেশি দুর্গন্ধ বের হতে দেখা গেছে। { গিনেস বুকের যে রেকর্ডগুলো বাংলাদেশের দখলে – জানতে হলে আর্টিকেলটি পড়ুন }
৭ .অ্যালকোহল পান
অনেকে অ্যালকোহল পান করেন। তবে যারা বেশি পান করেন তাদের স্বেদ গ্রন্থিতে অ্যাসিডিক হয়ে যায়। যার ফলে গায়ে প্রচন্ড পরিমাণ দুর্গন্ধ হয়। যদি আপনি অ্যালকোহল পান করেন তাহলে বিষয়টি নজরে রাখবেন।
৮ . মানসিক বিপর্যস্ত
মানসিক ভাবে বেশি উদ্বিগ্ন হলে আপনার শরীলের অ্যাপোক্রিন গ্রন্থি চালু হয়ে ওঠে। আপনার নার্ভাস সিস্টেমকে আরও বেশি করে উত্তেজিত করে তোলে। মানসিক বিপর্যস্ত হলে কিন্তু দুর্গন্ধের হয় এমনটা নয় না, তবে এসবের কারণে দুর্গন্ধ বাড়িয়ে দেয় শুধু। তাই মানসিক বিপর্যস্ত হবেন না।
৯ . বয়ঃসন্ধিকাল
বয়ঃসন্ধিকালে এই সমস্যা অনেকের মাঝে দেখা যায়। কিন্তু এইটি প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকলে সাবধান হতে হবে এবং বুঝতে হবে এর পিছনে বড় কিছু সমস্যা হয়েছে।
১০ . নিয়মিত ওষুধ ব্যবহার
আপনার শরীলে কোন রোগ থাকার কারণে যদি প্রতিদিন নিয়ম করে ওষুধ খাওয়ার দরকার হয় তাহলে এইটির জন্যও আপনার শরীলে দুর্গন্ধ হতে পারে। বিভিন্ন রকমের ওষুধের মধ্যে থাকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান। যা দুর্গন্ধ সৃষ্টির জন্য দায়ী।
১১ . অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার
আমাদের মাঝে অনেকেই মিষ্টি খেতে ভালোবাসে। তবে অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার খাওয়ার ফলে দেহে ইস্ট তৈরি হয়। এর পাশাপাশি বেশি পরিমাণ ঝালযুক্ত খাবার খেলেও আপনার শরীরে দুর্গন্ধ হতে পারে।
এর থেকে বুঝা যায় কোন কিছুই অতিরিক্ত খাওয়া ভালো না এবং কিছু জিনিম না খাওয়াই ভালো আপনারে শরীল ঠিক রাখতে। আশা করি আমার এই টিপস গুলো ফলো করলে আপনার শরীলে শরীরের দুর্গন্ধ দূর হবে আর যদি না হয় তাহলে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এর পাশাপাশি আপনাদের শরীরের দুর্গন্ধ কেন হয় এটিরও একটি ধারণা দিতে পেরেছি।