Vivo Y12A Review : আজ কথা বলবো Vivo Y12a এর সম্পর্কে। এর বাজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১,৯৯০ টাকা। আজকের পোস্টটিতে এই দামের মধ্যে এই ফোনটি কেমন হতে যাচ্ছে এবং এই ফোনটাকে আপনি কিনবেন কিনা এবং ফোনটি কেনো আপনার কিনা উচিত নয় এ সকল বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং ফোনটি সম্পর্কে বিস্তারিত বেশ কিছু জিনিস তুলে ধরা হবে।
Vivo Y12a এর বক্সে এ রয়েছে, স্মার্টফোন আরো পাচ্ছেন একটি সিলিকন ব্যাক কভার, ইউজার ম্যানুয়াল গাইড ও একটি সিং ইজেক্টর পিন, আরও পেয়ে যাচ্ছেন একটি ১০ ওয়ার্ডে এর চার্জিং অ্যাডাপ্টার এর সাথে রয়েছে একটি ইউএসবি ডাটা ক্যাবল।
ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি
ডিজাইন এন্ড বিল্ড কোয়ালিটি দিক থেকে যে কারো নজর কাড়তে সক্ষম। বাজারে দুটি কালার আপনারা সহজই পেয়ে যাবেন। একটি হচ্ছে গ্লিসিয়াল ব্লু এবং অপরটি হচ্ছে প্যান্থাম ব্লাক। ডিভাইসটির বেক পাট দেখতে পুরোটা গ্লাসের মত, তবে একদমই গ্লাস মনে করবেন না। এটি পুরোটাই পলিকার্বনেট পাইবার দিয়ে তৈরি এবং যেটি একটি গ্লাস ফিনিস দেওয়া হয়েছে। যার জন্য ডিভাইসটি দেখতে অসাধারণ লাগে ডিভাইসটির নিচের দিকে রয়েছে একটি স্পিকার, ৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন এবং ইউএসবি পোর্ট। ডান দিকে রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ভলিউম লকার এবং বাম পাশে রয়েছে একটি সিম পয়েন্ট যেখানে দুটি ফোরজি সিম সহ ১ টেরাবাইট একটি মেমোরি কার্ড ইউজ করতে পারবেন। ফোনটির থিকনেস হচ্ছে ৮.৪১ মিলিমিটার। ডিভাইসটি দেখতে কোন কমতি নেই এক কথায় অসাধারণ।
এই ডিভাইসটির মধ্যে যেটা আমার কাছে কমতি লেগেছে সেটা একটি টাইপ সি পোর্ট অথবা ১৮ ওয়াটের একটি চার্জিং অ্যাডাপ্টার।
{ মোবাইল ফোন ভালো রাখার ১০ টি টিপস – জানতে হলে এই আর্টিকেল টি পড়ে আসুন }
ডিসপ্লে
প্রাইস এর মধ্যে অন্য সবার মতো এইচডি প্লাস ডিসপ্লে তারা ইউস করেছে। যার রেজুলেশন হচ্ছে ৭২০ পিক্সেল ১৫১৮। ডিসপ্লে সাইজ : ৬.৫১ ইন্চি একটি আইপিএস ডিসপ্লে। এই ডিসপ্লে টি খুব ভালোভাবেই লো লাইটে আপনাকে পারফর্ম করতে পারবে। তবে ডায়রেক্ট লাইট অথবা ডে লাইটে ইউজ করতে আপনাকে কিছুটা কস্ট হতে পারে। যা এই প্রাইজের মধ্যে অন্যান্য সকল স্মার্টফোন গুলোর মত। ফোনটির মধ্যে আপনারা পেয়ে যাচ্ছেন ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ফেইস একক্সেসের সুবিধা।
র্যাম এবং রম
ডিভাইসটিতে র্যাম হিসেবে আমরা পেয়ে যাচ্ছি ৩ জিবি র্যাম এবং ৩২ জিবি রম এবং এক্সটারনাল হিসেবে ১০০০ জিবি পর্যন্ত মেমোরি কার্ড এখানে ইউজ করতে পারব।
এখানে ৩ জিবির পরিবর্তে যদি ৪ জিবি র্যাম ইউজ করা হতো তাহলে সব দিক থেকে এগিয়ে থাকতে Vivo Y12A.

প্রসেসর
আমরা পেয়ে যাচ্ছি Snapdragon 439 এবং সাথে সাপোর্ট দিচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ১১ যা বর্তমানে লেটেস্ট স্মার্টফোন গুলোর মধ্যে আমরা সচারচর পেয়ে যাচ্ছি। এটাতে যে প্রসেসর রয়েছে তা মূলত একটি স্টেবল প্রসেসর। যা আমরা দেখতে পেয়েছি Vivo Y11. Vivo Y11 ছিল বেস্ট একটি স্মার্টফোন এই প্রাইজের মধ্যে এবং খুব ভালো পারফরম্যান্স আমরা সেখান থেকে পেয়ে গিয়েছিলাম এবং খুবই পপুলার স্মার্টফোন হওয়ার কারণে ভিভো খুব সহজেই তাদের সামনে স্মার্টফোনগুলো আরো ডেভলপ করে আরো বেটার কিছু স্মার্টফোন নিয়ে আসে বাজারে এবং রাতারাতি হিট হয়ে যায়।
সাউন্ড
সাউন্ড কোয়ালিটি ছিল মোটামুটি। তবে আরও কিছুটা বেশি সাউন্ট থাকলে আরো ভালো লাগতো।
ক্যামেরা
ডিভাইসটির পেছনে রয়েছে ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ। এখানে ত্রিপল ক্যামেরা সেটআপ এর মতো দেখতে হলেও এখানে রয়েছে ডুয়াল ক্যামেরা। যার ১ টি হচ্ছে ১৩ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরা, ২ মেগাপিক্সেল অ্যাক্টিভ ডেপ্থ সেনসর।
বেশ কিছু ফিচারঃ এখানে আপনারা পেতে যাচ্ছেন, পোর্টেট প্যানারোমা লাইভ ফটো, টাইম ল্যাপস, ফেইস বিউটি সহ আরো অনেক অনেক ফিচার এবং ভিডিওতে ১০৮০ পিক্সেলের সাপোর্ট আপনারা পেয়ে যাচ্ছেন। সেলফি ক্যামেরায় ৮ মেগাপিক্সেলের একটি সেলফি ক্যামেরা। ক্যামেরা কোয়ালিটির কথা বলতে গেলে ক্যামেরা কোয়ালিটি ছিল অ্যাভারেজ কালার টোন বেশ ভালই ছিল। ডায়নামিক রেন্জেই ছিলো এভারেজ, ডিটেইলস কিছুটা ঘাটতি আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম। ফ্রন্ট ক্যামেরার ছবিগুলো খুব ভালো ছবি দিচ্ছিল। খুব সহজে যেকোনো ছবি আপনি চাইলে সোশ্যাল মিডিয়াতে আপলোড করতে পারবেন। তবে ফ্রন্ট ক্যামেরায় বেশ কিছুটা সমস্যা আপনারা পেয়ে যাবেন রাতে। রাতে ছবি তুলতে গেলে অতো ভালো ছবি আপনাকে দিবে না অন্য স্মার্টফোন গুলোর মতই। ডে লাইটে ভালো ছবি দিলেও রাতে বা অন্ধকারে আপনি যখন ছবি তুলবেন তখন কিছুটা ঘাটতি চোখে পড়বে। তবে এখানে যদি আরেকটু ভালো করা যেত তাহলে আরো কিছুটা বেটার পারফরম্যান্স পেয়ে যেতাম এই ফোনের ফ্রন্ট ক্যামেরা থেকে।
{ বাবরি মসজিদ ইতিহাস এবং বাবরি মসজিদ ধ্বংসের কারণ – জানতে হলে এই আর্টিকেল টি পড়ে আসুন }
ব্যাটারি
ডিভাইসটিতে ব্যাটারি হিসেবে রয়েছে ৫০০০mh একটি বিশাল ব্যাটারি। ডিজাইন অনুযায়ী ৫০০০mh ব্যাটারি তারা ইউজ করেছে তা ছিল মানানসই। ৫০০০mh ভিভো দাবি করছে, ১৪ ঘন্টা অনলাইন ভিডিও, ৭ ঘন্টা প্লাস অনলাইন গেমিং বাট আমি টেস্ট করে দেখেছি ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা অনলাইন ভিডিও এবং ফ্রী ফায়ার ৪ ঘন্টা প্লাস আপনারা খেলতে পারবেন।
এছাড়াও বেশ কিছু ফিচারঃ তারা আপনাদের কে দিয়ে দিয়েছে যেমন : ওটিজি, ফেস আনলক, অ্যাকসিলরোমিটার, প্রোক্সিমিটি সেন্সর এবং ই-কম্পাস।
এখন কথা বলব এই ফোন টি কারা কারা কিনবেন এবং কারাকারা কিনবেন না। যারা চাচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়া বেশি বেশি ইউজ করবেন অথবা অনলাইন ভিডিও দেখবেন অথবা ছোটখাটো গেমগুলো খেলবেন তারা চাইলে স্টেবল পারফরম্যান্স এর এই ফোনটি কিনতে পারেন। যারা যাচ্ছেন এই প্রাইস এর মত আরো বেশি বেশি স্পেসিফিকেশন তারা আমার কমেন্ট অপশন অবশ্যই কমেন্ট করবেন। আমি তাদেরকে আরও বেস্ট স্মার্টফোন সাজেস্ট করার চেষ্টা করবো।