Samsung Galaxy M02s Full Specifications

Samsung Galaxy M02s Full Specifications / স্যামসাং গ্যালাক্সি m20s : বাংলাদেশের বাজারে স্যামসাং অফিসিয়ালি লঞ্চ করে ফেলেছে Samsung Galaxy M02s। এই ফোনটির অফিসিয়াল প্রাইস রাখা হয়েছে ১৩,০০০ হাজার টাকা। ১৩,০০০ টাকা বাজেটের মধ্যে এই ফোনটি আপনার জন্য বেটার চয়েজ হতে পারে কি পারে না কিংবা এই ফোনটি কাদের জন্য একদম বেকার চয়েস? আমি আমার ইউজার এক্সপিরিয়ান্স থেকে সবটুকু জানিয়ে দেব।

 

Samsung Galaxy M02s Full Specifications

ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি

অন্যান্য স্যামসাং ফোনের থেকে এই ফোনের ডিজাইন টা একটু ইউনিক করা হয়েছে। ১৩ হাজার টাকার বাজেটের মধ্যে এই ফোনের পিছনের পেয়ে যাচ্ছেন পলিকার্বনেটের ম্যাট ফিনিশিং জিওমেট্রিক ব্যাক প্যানেল। যার ডাইরেক সানলাইটে অনেকটাই বেশি উজ্জলিত হয় এবং দেখতেও অনেক সুন্দর লাগে। এত করে অনেকটাই বেশি প্রিমিয়াম ফিলটা পাওয়া যায়।

 

Display

ফোনের সামনে ইউজ করা হয়েছে ৬.৫ ইন্চি পিএলএস আইপিএস ডিসপ্লে। এদিক থেকে এখানে কিছুটা কম্প্রোমাইজ করা হয়েছে কেননা এখানে সরাসরি আইপিএস প্লেনেলের ডিসপ্লে ইউজ করা হয়নি। ফোনটি সামনের দিকে আরো পাওয়া যাবে এইচডি প্লাস রেজুলেশনের ডিসপ্লে এবং এখানে দেওয়া হয়েছে ২০৭ পিপিআই পিক্সেল ডেন্সিটি। ডিসপ্লে কোয়ালিটি তেমনটা স্পেশাল কিছু নয় এটি আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, ডাইরেক সান লাইটের তেমনটা ভিজিবিলিটি লক্ষ করতে পারবেন না আর এই বাজেটের মধ্যে এত কিছু আশা করা যায় না। তবে ফোনটা ডিসপ্লে তে কোন ডিসপ্লে প্রোটেকশন দিচ্ছে না স্যামসাং। এটিও যদি আরও একটা বড় ধরনের কম্প্রোমাইজ বিশেষ করে ২০২১ সালে এসে এমনটা। অন্যান্য কম বাজেটের ফোনে স্যামসাং নোটিফিকেশন লাইট ইউজ করতো না কিন্তু এই ফোনটা থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটনা দেখা গিয়েছে। এই ফোনটা তে আপনারা পেয়ে যাবেন নোটিফিকেশন লাইট। যা ২০২১ সালে নোটিফিকেশন লাইট খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

{ আইফোন ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা – জানতে আর্টিকেল টি পড়ে আসুন }

 

Software and Performance

এর মাধ্যমে আমরা একসাথে দুইটা সিম কার্ড এবং মেমোরি কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। অ্যান্ড্রয়েড টেন এর সঙ্গে এখানে সাপোর্ট পাবেন স্যামসাংয়ের ওয়ান ওয়ে। তবে এখানে ভাল কথা ফোনটা তে ইউজ করা হয়েছে Qualcomm Snapdragon 450 (14 nm) চিপসেট। তার মানেই এক্সট্রা কিছু ভালো, এক্সট্রা  কিছু পারফরম্যান্স, এক্সট্রা কিছু বেটার প্রোভাইড করে Exynos এবং Mediatek চিপসেট থেকে। এই ফোনের চিপসেটে রয়েছে ১৪ নেনোমিটার আকিটেকচারের উপর বেচ করে তৈরি করা। সো নিশ্চিতে বলা যায় যে, কিছুটা হলেও কম পাওয়ারে ভালো এক্সপিরিয়ান্স পাবেন। এছাড়াও ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে Octa core, up to 2.0 GHz প্রসেসর এবং জিপিউ হিসেবে থাকছে, Adreno 506 । মোটামুটি ফ্রী ফায়ার কিংবা পাবজি লাইট আপনি খুব ভালোভাবে গেমিং করতে পারবেন এবং মাল্টি টার্চ খুব ভালোভাবে এই ফোনটি হ্যান্ডেল করতে পারবে কেননা যে ফোনটাতে Snapdragon 450 প্রসেসর টা ব্যবহার করা হয়েছে। যদি চিপসেটটা টা অনেক আগের একটা চিপসেট।

একটি বিষয়ে আপনার জেনে অবাক হবেন যে, এই ফোনটা তে কিন্তু রিয়ার মাউন্ডটেড অথবা সাইড মাউন্ডটেড কোন ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেয়া হয় নি। এত রয়েছে ফেস আনলক। তো বুঝতে পারতেছেন এটা কিন্তু স্যামসাং অনেকটাই খারাপ করেছে এবং এই ফোনটি কে কিনবে সাধারণভাবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ছাড়া এইটি আমার মাথায় আসে না। আপনার কি মনে হয় স্যামসাংয়ের এই ফোনটা কি আসলেই কি আপডেট নাকি ডাউনডেট কমেন্ট বক্সে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

তবে এখানে আমি আপনাদেরকে আরও একটা কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি ফোনটাতে কিন্তু দেওয়া হয়েছে সিঙ্গেল ব্যান্ড ওয়াইফাইয়ের সাপোর্ট। যেখানে টেকনোলজি আপডেট হচ্ছে সেখান থেকে হাই স্পিড ইন্টারনেট কখনোই কিন্তু প্রোভাইড করবে না এই ফোনটিতে। আমরা যেখানে ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াই ফাই ব্যবহার করি সেখানে হাই স্পিড ইন্টারনেট এর মত সুবিধা পেয়ে থাকি। কিন্তু এই ফোন দিয়ে আপনারা সেই হাই স্পিড ইন্টারনেট উপভোগ করতে পারবেন না। এদিকটা থেকে বাজেট হিসেবে কম্প্রোমাইজ করা হয়েছে। এমনকি ফোনটাতে শুধু মাত্র ২ টি সেন্সর প্রয়োগ করা হয়েছে : Accelerometer, Proximity।

 

Samsung Galaxy M02s Full Specifications

Ram and Rom

এই ফোনটার র‌্যাম ম্যানেজমেন্ট আশা করি আপনাকে কোন ধরনের আশাহত করবে না। এই বাজেট অনুসারে আপনি সোশ্যাল মিডিয়ার ইউজার এক্সপ্রিরিয়ান্স নিতে চান সে ক্ষেত্রে এই স্মার্টফোনটি বাজাটের মধ্যে আপনাকে ভালো কিছু জিনিস প্রোভাইড করতে অবশ্যই সফল হবে। সেটি হতে পারে প্রতিদিন ফেসবুক করেন কিংবা প্রতিদিন ইউটিউব ইউজ করেন, প্রতিদিন হোয়াটসঅ্যাপ ইউজ করেন। এই ধরনের টাক্স এই ফোনটি খুব ভালোভাবেই হ্যান্ডেল করতে পারবে। বর্তমানে আপনি ৪ – ৬৪ জিবি ভেরিয়েন্ট পাওয়া যাবে। এছাড়াও ফোন দিতে দেওয়া হয়েছে eMMC 5.1 সাপোর্ট।

 

Camera

ছবিতে আপনি হয়তোবা শুনেছেন সার্পনেসের ঘাটতি লক্ষ করতে পারবেন না অন্যান্য অনুসারে এবং বাজেট অনুসারে ফোনটার তোলা ছবি আমার কাছে অনেক টাই বেটার লেগেছে। তবে আপনার কাছে কি মনে হতে পারে কমেন্ট বক্সে আপনার মন্তব্য জানিয়ে যাবেন। ফোনটার পিছনের দিকে দেয়া হয়েছে, Triple Camera সেটআপ। যেখানে পেয়ে যাচ্ছেন ১৩ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, ২ মেগাপিক্সেল ম্যাক্রো এবং ২ মেগাপিক্সেল ডেপ্থ সেন্সর। ২ মেগাপিক্সেল ম্যাক্রো এবং ২ মেগাপিক্সেল ডেপ্থ সেন্সর ক্যামেরা কতটাই বা ভাল ছবি প্রোভাইড করে সেটি আপনার খুব ভালোভাবেই জানেন। এছাড়াও মেইন ক্যামেরা দিয়ে আপনারা ৩০ এফপিএসের ভিডিও করতে পারবেন।

এছাড়া ফোনটির সামনে পেয়ে যাচ্ছেন ৫ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা অ্যাপাচার ২.২। যেখানে বর্তমান সময়ে কম্পিটিশন বাড়তাছে সেখানে স্যামসাং শুধু বাজাটের মধ্যে অ্যাপাচার ২.২ প্রোভাইট করতেছে। এমনকি মেইন ক্যামেরাতেও অ্যাপাচার ২.২ ব্যবহার করা হয়েছে।  নিম্ন হলেও অ্যাপাচার ২.০ প্রোভাইড করা স্যামসাংয়ের উচিত ছিল বলে আমার ব্যক্তিগত মতামত। লো লাইট কন্ডিশনে অবশ্যই ছবি তোলার ক্ষেত্রে অনেকটাই বেশি সমস্যা তৈরি করবে সেটা কিন্তু আমি আপনাকে বলতেই পারি এবং সামনের ক্যামেরা দিয়েও ৩০ এফপিএসে ভিডিও করা যাবে।

{ Vivo V21e Price in Bangladesh Full Specifications জানতে পোস্টটি পড়ুন }

 

Other Features

ফোনটিতে পাওয়া যাবে ৩.৫ মি.লি. অডিও জ্যাক, লাউট স্পিকারের সার্পোট, জিপিএস, এফ এম রেডিও এবং ইউএসবি টাইপ সি এর সুবিধা দেয়া হয়েছে। এটা কিন্তু উল্টো দিকে আরও একটা প্লাস পয়েন্ট বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে। কেননা এই বাজেটের মধ্যে আগের স্যামসাং এর ফোনগুলো কিন্তু টাইপ সি দিতো না।

 

Battery

ফোনটাতে আপনারা ৫ হাজার মিলিয়াম্পেরে নন রিমুভাল ব্যাটারি পেয়ে যাচ্ছেন এবং ফোনটি চার্জ হতে এভারেজ দেখা যাবে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো কিংবা ১ ঘন্টা ৩০ মিনিটের মত সময় লাগবে এবং ফোনটাতে আপনার পেয়ে যাচ্ছেন ১৫ ওয়ার্ডের মতো ফাস্ট চার্জার। চার্জারের দিক থেকে এসে স্যামসাং হয়তোবা কিছুটা আপডেট করেছে, এমনকি কিছু ডাউনগ্রেড রয়েছে যে জিনিসগুলো আপনাদেরকে বলে দিয়েছি।

 

কাদের জন্য এই ফোন

আমার ধারণা এবং আমার ইউজার এক্সপ্রিরিয়ান্স থেকে আমি শুধুমাত্র বলতে পারি এই ফোনটি সেই সকল মানুষদের জন্য বেস্ট এবং পারফেক্ট রয়েছে, যারা সাধারণত ভাবে ডে বাই ডে শুধুমাত্র ইন্টারনেট ইউজ এর উপর একটু বেশি নির্ভরশীল করে থাকে। অর্থাৎ হেভি ইন্টারনেট ইউজ করে থাকে। সেক্ষেত্রে এটা হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়ায়, ইউটিউব, ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ। সেই ক্ষেত্রে এই ফোনটার র‌্যাম ম্যানেজমেন্ট কিন্তু সত্যিই এক কথায় অসাধারন এবং আপনাকে ভালো এক্সপ্রিরিয়ান্স দিবে। Samsung Galaxy M02s Full Specifications পোস্টটি কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানিয়ে দিন।

Post a Comment

Previous Post Next Post

যোগাযোগ ফর্ম