কমোডো ড্রাগন : বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বড় টিকটিকি জাতীয় প্রাণী হলো কমোডো ড্রাগন। তবে আচার্য বিষয় এই যে বর্তমান এই পৃথিবীতে মাত্র ৬০০০ কমোডো ড্রাগন রয়েছে। এই কমোডো ড্রাগন কিন্তু বিশাক্ত মাংসাশী প্রানী এবং বিষণ মারাত্নক হিংস্র।
কমোডো ড্রাগন কী
কমোডো ড্রাগন নামটি এসেছে একটি গুজব এর উপর ভিত্তি করে। ১৯১২ সালের আগে কোনো পশ্চিমা বিজ্ঞানী কমোডোর ড্রাগন দেখেনি। তারা শুনতে পায় ইন্দোনেশিয়ার কমেডো দ্বীপে ড্রাগনের মতো একটি প্রাণী দেখা গেছে তখন থেকেই এর নাম হয়ে যায় কমোডোর ড্রাগন। তবে স্থানীয় লোকজন এই প্রাণীগুলোকে ওরা নামে ডাকে। যার অর্থ ডাঙ্গার কুমির। এদের আরেক নাম হল ভারালি। একটি কমোডোর ড্রাগন সাধারণত ৮ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত লম্বা এবং ওজন প্রায় ১০০ কেজিরও বেশি হতে পারে। এদের ত্বক খসখসে আশ দ্বারা আবৃত। এসব আশ অনেকটা ছোট ছোট হাড়ের মত।
কমোডোর ড্রাগন এর লেজ শরীরের সমান বড় এবং এসব লেজ অন্যান্য প্রাণীর লেজ এর তুলনায় বেশ শক্তিশালী। সাপের মত কমোডোর ড্রাগন এর বিষ দাঁত আছে। একটি কমোডোর ড্রাগন সাধারণত ৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। এসব ড্রাগন বিভিন্ন রঙের হতে পারে। কমল, নীল, সবুজ এবং ধূসর কমোডো ড্রাগন সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বাহারান এর দৃষ্টি এবং ঘ্রাণশক্তি অত্যন্ত প্রখর। এরা প্রায় ১০০০ ফুট দূরের কোনো বস্তু দেখতে পায় এবং প্রায় ৬-৭ কিলোমিটার দূর থেকে শিকারের গন্ধ পায়। এত বড় শরীর নিয়েও প্রাণীগুলো ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার গতিবেগে দৌড়াতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ায় কমোডো ন্যাশনাল পার্ক
কমোডো তাদের আবাসস্থল রক্ষা করার জন্য হাজার ১৯৮০ সালে ইন্দোনেশিয়ায় কমোডো ন্যাশনাল পার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৯১ সালে উদ্যানটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এই ন্যাশনাল পার্ক এলাকায় ২০ টির বেশি দ্বীপ আছে। কমোডো দ্বীপের পার্শ্ববর্তী ঋণ চা, পাদার, নুসা কোডে এবং গিলি মোতাং দ্বীপগুলোতে এই প্রাণীদের সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। { এবার সিনেমার নায়িকা হতে চান মেহজাবিন চৌধুরীি এই আরটিকেল টি পড়তে পারেন}
কমোডো ড্রাগন মাংসাশী প্রাণী। এদের প্রধান খাবার হলো হরিণ। তবে এরা মহীশ, শূকর, পাখি এবং মানুষও খায়। শুধু তাই নয় বরং বড় ড্রাগন সুযোগ পেলে ছোট ড্রাগন কেও ভখকন করে। এরা এক বসায় নিজেদের শরীরের ওজনের প্রায় ৮০ ভাগ পর্যন্ত খাবার খেতে পারে। তার মানে একটি কমোডোর ড্রাগন এর ওজন যদি হয় ১০০ কেজি তাহলে সে এক বসায় ৮০ কেজি খাবার খেতে পারবে। এরা একবার পেট ভরে খাওয়ার পর ১ মাস না খেয়ে থাকতে পারে। বাড়ানের স্বীকার করার ধরন হলো : প্রথমে কোন প্রাণীকে কামড় দিয়ে অসুস্থ করে ফেলে এরপর এদের বিষের প্রভাব এ প্রাণীটি মারা গেলে তারপর গিয়ে মৃত প্রাণীর মাংস খায়। এরা কবর খুঁড়ে মৃত মানুষের লাশও খায়। কমোডো ড্রাগন এর সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয় হল স্ত্রী ড্রাগন কোন পুরুষের স্পর্শ ছাড়াই সন্তান জন্ম দিতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে বলে পার্থেনোজেনেসিস।
৮০ টিরও বেশি মেরুদন্ডী প্রাণীর মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা গেছে। এদের অর্ধেকই হলো মাছ এবং গিরগিটি। সত্যিকারের ড্রাগন না হলেও নামের সাথে ড্রাগন থাকার কারণে প্রাণীগুলো বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয়। ২০০৮ সালে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ এই প্রাণীকে দেখতে কমোডো দ্বীপে গেছে এবং মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে ২০১৮ সালে দ্বিপটির পর্যটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার। দিনদিন অধিক পর্যটক এর কারণে কমোডো দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে সে কারণে ইন্দোনেশিয়া প্রশাসন এই দ্বীপে পর্যটকদের আনাগোনা সীমিত করার পরিকল্পনা করেছে।