৫০ বছর অঅগে মানবজাতি চাঁদের বুকে পা রেখেছিল। আমেরিকার ৯ টি অ্যাপোলো মিশন এর জন্য নভচারিদের চাঁদে পরিক্ষার পাঠানো হয়। যেটি ১৯৬৮ – ১৯৭২ সালে। এর মধ্যে ৩ টিতে ব্যর্থ হলে ৬ টিতে চাঁদে অবতরণ করতে পেরেছে কোন সমস্যা ছাড়াই। তবে এই অপূর্ব দৃশ্য সাক্ষী হতে পেরেছিলো মাএ ১২ জন। বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এখন বিজ্ঞানীরা কয়েক বছরের মধ্যে স্থায়ী ভাবে চাঁদের বুকে থাকতে চাইছে। চাঁদের বুকে মানব বসতি নিয়ে আলোচনা করা হবে ।
নাসার পরবর্তী চন্দ্র অভিযানের নাম আর্টেমিস। এবার নাসা চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে শুধু গিয়ে ঘুরে আসার জন্য নয় ওখানে গিয়ে রীতীমতো বসবাস করার জন্য। চাঁদে বসবাসের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মঙ্গল গ্রহের জটিল অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য। এবারের চন্দ্র অভিযান মূলত মঙ্গল গ্রহের মহড়া আর্টেমিস প্রোগ্রামের মানুষ চাঁদে যেতে যে নভোযান ব্যবহার করবে তার নাম ওরিয়ন। একে বলা হয় এমসিপিবা মাল্টিপারপাস গ্রফিক্যাল। ৬ জনের ধারণ ক্ষমতা থাকলেও ৪ জন নভোচারী পরিবহন করা হবে। এই এমসিবি দিয়ে মহাকাশের গভীরেও ভ্রমণ করা যাবে। ভবিষ্যতে মানুষ মঙ্গল গ্রহে যেতে ওরিয়ন যান ব্যবহার করবে। ওরিয়ন এমসিবি তৈরি করেছে আমেরিকার বিখ্যাত লকহিড মার্কিন কম্পানি।
ক্যাপসুল যে রকেট এর সাহায্যে উৎক্ষেপণ করা হবে তার নাম এসএমএস রকেট। ২০১১ সালে রকেটের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণ সম্পন্ন হলে এটি হবে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট। অ্যাপোলো প্রোগ্রামের কিংবদন্তি স্যার্টান ৫ রকেটের চেয়ে এসএলএস রকেট সকল দিক থেকেই বহু এগিয়ে। ৪৫ বছরের মানুষ প্রথম চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। অ্যাপোলো মিশন এর সাথে আর্টেমিস মিশনের একটি বড় পার্থক্য হল একটি মূল স্টেশন। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের আদলে চারপাশে ঘূর্ণায়মান একটি মহাকাশ স্টেশন তৈরি করা হবে। এর নাম গেটওয়ে। চাঁদে অভিযান পরিচালনার সময় পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী যোগাযোগ রক্ষার জন্য এই স্টেশনে কাজ করবে। যে প্রজেক্টে নাসা, কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং জাপানিজ অ্যারোস্পেস এক্স রেশন এজেন্সির যৌথ উদ্যোগে নির্মাণ করা হবে।

এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে মিশনের বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রয়োজন অনুযায়ী স্টেশনকে বড় করা যায়। ২০২২ সালে এর ইঞ্জিন এবং ৫৫ টন ওজনের একটি কম্পার্টমেন্ট মহাকাশে পাঠানোর মাধ্যমে স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। মানুষ বসবাসের কক্ষ এবং লজিস্টিকস ইউনিট পৃথিবী থেকে তৈরি করে ২০২৩ সালে স্টেশন এর সাথে যুক্ত করা হবে। এরপর ধীরে ধীরে আরও বহু অংশ স্টেশনটি সাথে যুক্ত হবে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে তুলনায় লুনার গেটওয়ে মাত্র ১৩ শতাংশ। যেটার কারণে যাদের যে কোন অঞ্চলে অনায়াসে অভিযান পরিচালনা করা যাবে। এই স্টেশন থেকে একই সাথে একাধিক মিশন পরিচালনা করার ব্যবস্থাও থাকবে। ১৯৭২ সালে চাঁদে অবতরণের পর কোন মানুষ চাঁদে যায়নি। নাসার আর্টেমিস মিশনে ২০২৪ সালের মধ্যে তারা প্রথম কোন নারীকে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করাবে।
{ আইফোন ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা – জানতে আর্টিকেলটি পড়ে আসুন }
চাঁদের মাটিতে আর্টেমিস বেসক্যাম্প গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে চন্দ্র অভিযানের নতুন প্রজন্ম শুরু হবে। ২০২৮ সালের মধ্যে বেস ক্যাম্প তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। ক্যাম্প তৈরীর সম্ভাব্য জায়গা হল যাদের দক্ষিণ মেরুর সাকেল টন ক্রেটার। এই গর্তরে ব্যাস প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং গভীরতা সাড়ে ৩ কিলোমিটার। এই অন্ধকার গর্তের মধ্যে ক্যাম্প তৈরি করার বিশেষ কারণ আছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, স্যাটেল সাকেল টন ক্রেটার এর তলদেশে বরফ আকারে অনেক পানি মজুদ রয়েছেসাকেল টন ক্রেটার। চাঁদ সোনা, প্লাটিনাম, টাইটেনিয়াম এর মত বহু মূল্যবান খনিজ পদার্থ আছে। কিন্তু চাঁদের বুকে থাকায় এসবের চেয়েও বহু মূল্যবান পদার্থ হল পানি। পানির রাসায়নিক গঠন ভাঙলে হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন পাওয়া যায় আর এই দুটি উপাদানকে তরলীকরণ করে রকেটের জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব। পৃথিবী থেকে উৎক্ষিপ্ত কোন রকেটে চাঁদে অবতরণ করে সেখান থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে আরো দূরবর্তী কোন গন্তব্যে যাত্রা করতে পারবে। চাঁদের বুকে পানি খুঁজে বের করা সম্ভব হলে আন্তঃগ্রহ যাত্রার সময় চাঁদকে রি ফুয়েলিং স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
নাসার বিজ্ঞানীর ধারণা অনুযায়ী, চাঁদ ১ বিলিয়ন মেট্রিক টন বরফ থাকতে পারে। আর্টেমিস প্রোগামের শুরুর দিকে সেই পানি বের করাই প্রধান লক্ষ হবে। চাঁদে আর্টেমিস ক্যাম্প গড়ে তোলার আগে আরো অনেক কাজ করতে হবে। আর্টেমিস প্রোগ্রাম এর প্রথম ধাপে তিনটি অভিযান পরিচালনা করা হবে। আর্টেমিস এক হবে মনুষ্যবিহীন একটি তেস্ট ফ্লাইট ২০২১ সালের নভেম্বরে এসএলএস রকেট এবং ওরিয়ন ক্যাপসুল কোন মানুষকে পরিবহন না করেই যাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। এর প্রধান লক্ষ্য হল এই জানে নভোচারীদের জন্য কতটা নিরাপদ তা পরীক্ষা করা হবে। এই মিশনে তেরোটি ছোট স্যাটেলাইট নিয়ে যাওয়া হবে। যেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশ কিছু অনুসন্ধান এবং পরীক্ষা চালাবে।
২০২২ সালে আর্টেমিস ২ অভিযান পরিচালিত হবে। আর্টেমিস দুইভাবে এই অভিযানের প্রথম মানব বাহির ফ্লাইট। ৪ জন নভোচারীদের এই মিশনে অংশগ্রহণ করবে। তারা অবশ্য চাঁদে অবতরণ করবে না। চাঁদের চারদিকে কয়েকদিন প্রদক্ষিণ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবে। নভোচারীরা দীর্ঘদিন এই পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারবে কিনা তা পরীক্ষা করাই দ্বিতীয় অভিযানের উদ্দেশ্য। ২০২৪ সালে আর্টেমিস ৩ মিশনে বহুদিন পর আবারও মানুষ চাঁদে অবতরণ করবে। আর্টেমিস প্রোগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেম অর্থাৎ চন্দ্রযান এর যে অংশটি নিয়ে মানুষ চাঁদে অবতরণ করবে এই জান এর সাহায্যে গেটওয় স্টেশন এবং এর মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করা যাবে।
হিউম্যান সিস্টেম তৈরির জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিয়েছে নাসা। কম্পানি এই তিনটি হলো : ব্লু অরিজিন, ডাইনেটিক্স, এবং স্পেস এক্স। ব্লু অরিজিন এর তৈরি বাহনের নাম ইন্টিগ্রেটেড ল্যান্ডার ভেইকেল। ৩ খন্ডে বিভক্ত এই জানটি পৃথিবী থেকে আলাদা রকেটের মাধ্যমে গেটওয়েতে পাঠানো হবে। ডাইনেটিক্স কোম্পানি তৈরি করেছে হিউম্যান সিস্টেম। আলাদা রকেটে পাঠানো হবে অন্যদিকে স্পেস এক্স তৈরি করছে স্প্লেন্ডার। এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে প্রত্যেকটি চন্দ্রযান এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং বিশেষ অর্থ রয়েছে। তিনটি কোম্পানির তৈরি যানবাহনে আর্টেমিস মিশনে সমানতালে ব্যবহার করা হবে।
২০২৪ সালে আর্টেমিস প্রোগ্রামের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে পৃথিবী এবং চাঁদের মধ্যে মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করবে। আর্টেমিস অভিযানে মহাকাশে মানুষের শরীর মহাকাশ জীববিজ্ঞান অ্যাস্ট্রোফিজিক্স হেলিও ফিজিক্স এবং প্লানেটারি সাইন্স বিষয়ে বিস্তর গবেষণা করা হবে। প্রয়োজনীয় গবেষণার পর আগামী এক দশকের মধ্যে নাসা এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে চাঁদের বুকে আর্টেমিস স্টাম্প করে তুলবে।
যেখানে মানুষ স্থায়ীভাবে চাঁদের বুকে বসবাস করতে পারবে। চাঁদের বুকে মানব বসতি । বর্তমানে মহাকাশ শুধু রাষ্ট্রীয় গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই এখন যে কেউ চাইলেই টাকা খরচ করে মহাকাশ থেকে ঘুরে আসতে পারবে। সম্প্রতি দুইজন বিলিয়নিয়ার মহাকাশ ভ্রমণের মহড়া সম্পন্ন করে এসেছেন। ভার্জিন গ্যালাক্টিকের কর্ণধার রিচার্ড ব্র্যানসন এবং অরিজিনাল প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। কিভাবে মহাকাশ থেকে ঘুরে এসেছেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে আমাদের বলতে পারেন তাহলে আমরা সে বিষয়ে একটি পোস্ট আপলোড দিবো।