আজকের আর্টিকেলটিতে জানবো : রক্তদানের আগে ও পরে করনীয় কী, রক্তদানরের জন্য কত বয়স হতে হবে, রক্তশূন্যতা হলে কি রক্ত নেওয়া উচিত, উচ্চরক্তচাপ ডায়াবেটিস থাকলে রক্ত দেওয়া যাবে কি, রক্তদানের ফলে শরীরের রক্তের কোন ঘাটতি হয় কি, রক্তদানের ফলে শরীরে কি উপকার হয়, নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে শরীর যে ভাবে উপকৃত হয়ে থাকে, রক্ত দেওয়া ভালো কিনা ।
আমাদের দেশে এক সময়ে রক্ত না পাওয়ার কারণে মানুষের মৃত্যু হত। কিন্তু বর্তমানে এ ধারণা থেকে মানুষ অনেকটা বের হতে পেরেছে তার পরও রক্তদান নিয়ে মানুষের মাঝে কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েই গেছে।
আজকের এই পোস্টটিতে, আমরা মূলত যারা রক্ত দিতে পারবেন তাদের রক্তদানের আগে ও পরে করনীয় কী? কাদের কাছ থেকে রক্ত নেওয়া ভালো? কোন কোন অসুখে রক্ত দেয়া যাবেনা? রক্তচাপের হলে কি শরীরের রক্তের ঘাটতি হয়? রক্ত কাদের দেওয়া নিরাপদ? এছাড়া রক্ত দানের ফলে শরীরে আসলে উপকার হয় নাকি ক্ষতি হয়? ইত্যাদি এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সহ আরো কিছু তথ্য আপনাদের সাথে তুলে ধরব। আশা করি আপনার মনের সব প্রশ্নের উত্তর কিভাবে পেয়ে যাবেন। প্রথমেই মূলত যারা রক্ত দিতে পারবেন ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ যেকোন মানুষ রক্তদান করতে পারবেন। তাছাড়া রক্তদাতার এমন কোন লোক যেন না থাকে যাতে রক্তদান করলে ক্ষতি হয় এবং রক্ত গ্রহীতা রক্ত গ্রহণের ফলে ক্ষতি না হয়।
রক্তদানরের জন্য কত বয়স হতে হবে?
রক্ত দানের ক্ষেত্রে পুরুষের জন্য ৫৫ কেজির বেশি এবং নারীদের ৫০ কেজির বেশি ধরা হয়ে থাকে।
রক্তদানের আগে ও পরে করনীয় কি?
রক্তদানের আগে রক্ত পরীক্ষা করে নেবেন, তার বড় কোন সমস্যা আছে কিনা যেমন : হাট উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে সমস্যা ইত্যাদি। রক্তদানের আগে স্যালাইন পানি খেয়ে নিবেন। ঠিক আছে কিনা জেনে নেবেন।
রক্ত দাতা রক্ত দেওয়ার পর ৫ থেকে ৬ মিনিট শুয়ে বিশ্রাম নেবেন তারপর উঠে স্যালাইন পানি খাবেন। নিজের ভাই বোন বাবা-মা এবং আত্মীয় রক্ত নেওয়া ভালনা। যতই নিকটাত্মীয় হোক তাদের থেকে রক্ত নেওয়া একপ্রকার অপরাধ। ভালো তো কোন প্রশ্নই আসে না আপন ভাই বোন বাবা মা সন্তান এসব সম্পর্কের কেউ একে অপরকে রক্ত দেবেন না যদি নিতেই হয় তবে দূরের কেউ পরিচিত থেকে হেল্প নেয়া।
রক্তশূন্যতা হলে কি রক্ত নেওয়া উচিত?
রক্তশূন্যতার কারণ নির্ণয় না করে রক্ত দেওয়া একটা অপরাধ। এতে করে পরবর্তীতে রোগীর রক্তশূন্যতার কারণ খুঁজে বের করতে খুবই অসুবিধা হয়। তাছাড়া রক্তদানের কারণে মূলত যে রোগের ফলে রক্তশূন্যতা হয় সেরকম বেড়ে যায় পরবর্তীতে সে রোগের চিকিৎসা করানো খুব কঠিন ও অসম্ভব হয়ে পড়ে।
অনেক সময় ক্যান্সারের মতো রোগ ছড়িয়ে যায় তাছাড়া রক্তশূন্যতার কারণ নির্ণয় করে ঠিক ভাবে ঔষধ খেলে রক্তশূন্যতা ভালো হয়ে যায়। তাই অবশ্যই রক্তশূন্যতার ক্ষেত্রে কারণ নির্ণয় করা খুবই জরুরি।
উচ্চরক্তচাপ ডায়াবেটিস থাকলে রক্ত দেওয়া যাবে কি?
যদি উচ্চরক্তচাপ ডায়াবেটিস স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে তবে দেয়া যাবে।এ রোগের কারণে শরীরে অন্য কোন অঙ্গের সমস্যা যেমন: উচ্চ রক্তচাপ থেকে হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস থেকে কিডনির সমস্যা হলে রক্ত দেওয়া যাবে না।
রক্ত দানের ফলে শরীরের রক্তের কোন ঘাটতি হয় কি?
একজন ব্যক্তি এক ব্যাগ রক্ত দিতে পারেন সেই রক্তের ঘাটতি শরীরে খুব দ্রুত পূরণ হয়ে যাবে এবং এতে ক্ষতি নেই প্রত্যেক ব্যক্তির রক্ত চার মাস পর আর কাজে লাগেনা। তাই সুস্থ ব্যক্তি এক ব্যাগ রক্ত দিলে ঘাটতি হবার সুযোগ নেই।
গ্রুপিং এবং ক্রস ম্যাচিং করার পর রক্ত নেওয়ার কারণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারি কি?
রক্ত নেওয়ার আগে সাধারণত রক্তের গ্রুপ এবং আরিজ টাইপিং দেখা হয় কিন্তু এর বাহিরেও রক্তের গ্রুপের মধ্যে অনেক গ্রুপ ও থাকে। ফলে অগ্রজ ম্যাচিং করার পরও সমস্যা হয়।
রক্ত দেওয়া ভালো না কি?
বিশেষ বিশেষ অংশ অনেক সময় রক্ত নেওয়ার ফলে শরীরে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরকম হয়ে থাকে শরীরে পুরো রক্ত নেওয়ার ফলে রক্তশূন্যতার কারণ খুঁজে বের করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লাল-সাদা কোন রক্ত লাগে না তারপরও রক্ত লাগলে যতটুকু প্রয়োজন তা দিতে হবে পুরোটা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
এবার জানা যাক রক্ত দানের ফলে শরীরে কি উপকার হয় নাকি ক্ষতি হয়?
দর্শক আপনাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে রক্ত দানের কোন ক্ষতিকর দিক নেই। নিয়ম এবং সঠিক মাত্রায় রক্তদান করলে শরীরে অনেক উপকার হয়। চলুন তবে দেখে নেওয়া যাক :
রক্তদানের পর শরীরের যেসব উপকার হয়ে থাকে।
রক্তদান মহৎ একটি উদ্যোগ অন্যকে রক্ত দেওয়ার মাধ্যমে যেমন : তার জীবন বাঁচানো যায়, ঠিক তেমনি রক্তদান করলে নিজের শরীরের উপকার হয়ে থাকে। অনেকেই ভেবে থাকেন রক্তদান করলে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায় ভুগতে হবে ধারণাটি একদমই ঠিক নয়। কারণ রক্তদানের উপকারিতা রয়েছে। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ নিঃস্বার্থ উপকার হল রক্তদান। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে বছরে ৮ থেকে ৯ লাখ ব্যাগ রক্তের চাহিদা থাকলেও রক্ত সংগ্রহ হয় ৬ থেকে ৬.৫ ব্যাগ। ঘাটতি থাকে তিন লাখ
ব্যাগের বেশি এছাড়া সংগ্রহকৃত রক্তের মাত্র 30 শতাংশ আসে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের থেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক ব্যাগ রক্ত দিতে সময় লাগে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিট। অল্প সময়ে চাইলেই একজনের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। রক্তদাতাকে অবশ্যই ভাইরাসজনিত রোগ এবং চর্ম রোগ মুক্ত থাকতে হবে।
রক্ত দেওয়ার পর যা হয় :
রক্ত দেওয়ার পর কিছুটা মাথা ঘোরাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় হাঁটাহাঁটি না করে অন্তত এক থেকে দুই ঘন্টা বিশ্রাম নেওয়া উচিত এবং অস্থির হবেন না। তবে তাকে স্যালাইন খাওয়াতে হবে। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষ ৪৫০ মিলিমিটার রক্ত দেয়া হয় রক্ত দেওয়ার পর লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে অন্তত এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি রক্ত বাড়ে এমন খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
এবার জানা যাক নিয়মিত রক্ত দানের মাধ্যমে শরীর যে ভাবে উপকৃত হয়ে থাকে :
নিয়মিত রক্তদান করলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। বছরে তিনবার রক্ত দিলে শরীরের নতুন লোহিত কণিকা তৈরি হার বেড়ে যায়। এতে অস্থি মজ্জা সক্রিয় থাকে দ্রুত রক্তস্বল্পতা পূরণ হয় রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে ফলে হূদরোগ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়, শরীরে হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস সি ডি এস, মিডিয়া সিফিলিস এইচআইভি বা এইডস এর মত বড় রোগ রক্তদাতার শরীরের রোগ প্রতিরোধ করতে ক্ষমতা বাড়ায়। রক্তদানের সমস্যা হয় না কেননা একজন সুস্থ মানুষের শরীরে ৫ থেকে ৬ লিটার রক্ত থাকে।
এর মধ্যে সাধারণত ২৫০ থেকে ৫০০ মিলি মিটার রক্তদান করা হয় যা শরীরে থাকা মোট রক্তের মাত্র দশ ভাগের এক ভাগ। রক্তের উপাদান পানি, ২৪ ঘন্টার মধ্যে পূরণ হয়ে যায় বছরে তিনবার রক্তদান শরীরে লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে তোলে। নিয়মিত রক্তদান এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়, মানুষের ওজন কমাতে রক্তদান বেশ ভালো ভূমিকা পালন করে থাকে। মুমুর্ষ রোগীর রক্ত দিলে মানসিকভাবে তৃপ্তি পাওয়া যায়।
প্রিয় বন্ধুরা আশা করছি রক্তদান নিয়ে একটি কমপ্লিট ধারণা আপনি পেয়েছেন রক্তদান নিয়ে আপনার মনে কি আর কোন প্রশ্ন আছে যদি থেকে থাকে তাহলে এই পোস্টটির কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন আরও জানিয়ে দিন এখন পর্যন্ত কতবার রক্ত দান করেছেন আর যারা আগে কখনো রক্তদান করেননি তারা কি এখন প্রয়োজন হলে মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্ত দান করবেন।
সকলকে ধন্যবাদ এতক্ষণ ধরে আমার আর্টিকেলটি পড়ার জন্য দেখা হবে পরের আর্টিকেলে।
এরকম পোস্ট বার বার পেতে হলে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট। এছাড়াও কোন কিছু জানাতে বা জানতে অথবা প্রশ্ন করতে Contact Us গিয়ে আমাদের মেইল করে জানান।
সম্পূর্ণ পড়ার জন্য ধন্যবাদ। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।
