আজ আমরা জানবো : মোবাইল ফোন ভালো রাখাতে ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস, ফোনের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায়, কি উপায় অবলম্বণ করলে ফোন বেশি দিন চালানো যায় ইত্যাদি।
আমার ফোন এখন আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী। স্মার্ট ফোন ছাড়া আসলে আমরা একটা দিনও কল্পনা করতে পারি না। আসলে ব্যাপারটা এমন হয়ে গিয়েছে যে ভাত না খেলেও চলে কিন্তু স্মার্ট ফোন না চালালে চলেই না। আমরা প্রতিদিন বুঝে বা না বুঝে অথবা জেনে বা না জেনে এমন কিছু ভুল করি যে ভুলগুলো আমাদের স্মার্টফোনের আয়ু খুব দ্রুত শেষ করে দেয়।
আজকে আমরা এমন কিছু জিনিস আপনাদের সাথে শেয়ার করবো যে ভুল গুলো আমরা না করলে আমাদের স্মার্টফোন আরো অনেক দিন টিকতে পারে।
১ . চার্জার বা ডাটা কেবল
আমাদের ফোন ৩ – ৪ বছর আমরা চালাবো এটাই স্বাভাবিক। কারণ প্রতিদিন আমার কিনতে পারবে না। কিন্তু চার্জার বা ডাটা কেবল তো ৩- ৪ বছর তো যাবে না। অন্যত ডেটা ক্যাবল আপনাকে চেন্জ করতেই হবে। সাধারণত টাকা পয়সা বাঁচানোর জন্য আমরা সস্তা নন-ব্র্যান্ডেড কিছু চার্জার কিনে এনে আমাদের ফোনের সাথে লাগাই। যেগুলো ধীরে ধীরে আমাদের ফোন গুলোকে নষ্ট করে ফেলে।
সব ডাটা কেবিল দিয়ে কিন্তু ভালোমত ইলেকট্রিসিটি পাস করতে পারেনা ঠিকমত। আপনার ফোন চার্জ দিতে যে মিলিয়াম্পের কারেন্ট পাস করার দরকার হয় সেই কারেন্ট পাস সব ধরনের ডেটা ক্যাবল করতে পারে না। যার জন্য সঠিক চার্জার এবং সঠিক ডাটা ক্যাবল ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তো আমরা করি যে, বাজার থেকে সবচাইতে কম দামি একটা কেবল কিনে মোবাইল চার্জ দেই এবং কিছুদিন পরে ফোনের নানা রকম সমস্যার শুরু হয় আর আমরা মনে করি ফোনটা খারাপ হয়ে গেছে আসলে কিন্তু না। আপনাকে অফিশিয়াল চার্জার বা ডাটা কেবল ব্যবহার করা উচিত আর তা না হলে অন্তত খুব ভালো মানে ভালো ব্রান্ডের একটা চার্জার ব্যবহার করা উচিত। তাতে করে আপনার ফোনটা অনেক অনেকদিন ভালো থাকবে।
২ . ব্যাক কভার ইউস না করা
এটা কিন্তু সব সময় না। তবে যখন আমরা চার্জ দিবো বা গেমিং করবো তখন ব্যাক কভার ইউস না করাই ভালো। উদাহারন সরুপ : যখন কোন কাজ করি সেই মুহূর্তে যদি ফোন বেশি গরম হয়ে যায় তখন।
অনেক সময় ধরে বেশিক্ষণ ধরে ভিডিও করলো কিন্তু ফোন গরম হয়ে যায় এই সমস্ত ক্ষেত্রে আপনি পারলে আপনার ব্যাক কভার টা খুলে রাখুন। কারণ ফোনের সবচাইতে বড় শত্রু হচ্ছে হিট। হিট যদি আপনার ফোন কনস্টানলি প্রোডিইউস করতে থাকে তাহলে ফোনের ভেতরে যে কম্পোনেন্ট গুলো থাকে এগুলো খুব সেনসিটিভ এগুলো নয় নস্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নিয়মিত আপনার ফোন যদি হিট হতে থাকে তাহলে খুব অল্পদিনের মধ্যে দেখবেন যে আপনার ফোনটা ইন্নালিল্লাহ করা শুরু করে দিয়েছে। আপনাকে অবশ্যই ফোনের ব্যাক কভার টা খুলে রাখতে হবে যখন ফোনে ভারী কোন কাজ করবেন, খোলা অবস্থায় থাকলে হিটটি বাহিরে ছড়িয়ে যায় তাই ফোন তত বেশি ক্ষতি হয় না।
আপনাদের মধ্যে যারা গেমার রয়েছেন তারা স্মার্টফোন কুলার ব্যবহার করতে পারেন। যাতে ফোনটি হিট প্রোডিইউস না করে এবং ফোনটি ঠান্ডা থাকে।
৩ . ফোন নিয়মিত ডিসচার্জ না করা
আপনাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা ৫০% এ নেমে এলেই আপনারা ফোন চার্জে বসিয়ে দেন কখনও আমরা ৫০% এর নিচে আসতে দেই না। পুরো পুরি ফোন চার্জ শেষ না করেই ফোন আবার চার্জ দিলে ফোনের যে ডিসচার্জ সাইকেল আছে সেটার ক্ষতি হয় ফলে ফোনের ব্যাটারির হেল্থ নস্ট হয় এবং অতি দ্রুত আপনার ফোনের ব্যাটারি নস্ট হয়ে যায়। তাই আপনারা প্রতিদিন নয় তবে ১ মাসে ১ বার হলেও পুরো পুরি ডিসচার্জ করবেন মানে : ১% নিয়ে গিয়ে আবার চার্জ দিবেন এবং সব সময় মোবাইল ফোনের চার্জ ২০% – ৮০% মধ্যে ব্যবহার করা চেস্টা করবেন তাতে আপনার ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘ দিন ব্যাকাব দিবে।
{ বিপিএল 2022 সব দলের স্কোয়াড দেখতে এই আর্টিকেলটি পড়তে পারেন }

৪ . সফটওয়্যার আপডেট
আমরা কোন কিছু চিন্তা ভাবনা না করেই ফোনে সফটওয়্যার আপডেট আসলেই একেবারে আপডেট দেয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু আপনি জানেন কি? অনেক স্মার্ট ফোন কোম্পানি ইচ্ছা করেই ফোনটি স্লো করার জন্য আপডেট দিয়ে থাকে।মাঝখানে তো আইফোন এরকম একটা কেলেঙ্কারি ফেসে গিয়েছিল এবং তাদের অনেক টাকা জরিমানা দিতে হয়েছিল।
তবে যে সমস্ত সিকিউরিটি আপডেট গুলো আসে সেগুলো অবশ্যই দেবেন। তা না হলে আপনার ফোন বুঝতে পারবে না কোনটা ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস। আপনার ফোনে যে আপডেট টি আসে সেটির ডিটেইলস অবশ্যই পড়ে দেখবেন। কারণ সফটওয়্যার আপডেট তো সফটওয়্যারের জন্য এটা তো আপনার ফোনের হার্ডওয়্যার সেকশনকে তো আর চেন্জ করে না এবং আরেক টি কাজ করবেন আপডেট দেয়ার আগে সেটি হল : যে আপডেট দিবেন সেটি আগে ফেসবুক গ্রুপে রিভিউ দেখবেন তাদের এই আপডেট দেয়ার পর কোন সমস্যা হচ্ছে কি না। যদি কোন সমস্যা না থাকে তাইলে দিবেন।
এমন অনেকে আছে যাদের সফটওয়্যার আপডেট আসে এবং তারা কিছু না জেনেই দেয়ার ফলে অনেক সমস্যার সম্মূখিন হয়। যেমন : ফোন স্লো হয়ে যাওয়া, ব্যাটারি ব্যাকাপ কম পাওয়া, নিদিষ্ট কোন সফটওয়্যার কাজ না করা, ক্যামেরা অপেন না হওয়া ইত্যাদি। তাই অবশ্যই আগে আপডেট টির ডিটেইলস পড়বেন এবং গ্রুপে সেই আপডেটের রিভিউ দেখবেন।
৫ . পাওয়ার ফুল ভাইব্রেশন ইউস করা
আপনারা অনেকেই ভাইব্রেশন ইউস করে থাকেন হয়ত আপনারা চান যে আপনার ফোনের রিংটন কাউকে বিরক্ত না করুক। যে আমরা সবাই চাই যেন ফোনটা ফোনের রিংটোন কাউকে বিরক্ত না করুক ভাইব্রেশনের ফলে যেন বুঝতে পারি আমার ফোনের নোটিফিকেশন বা কল এসেছে। কিন্তু ফোনের ভিতর যে ইন্টারনাল কম্পোনেন্ট গুলো যে সেগুলো খুবই সেনসিটিভ হয় আর এই ভাইব্রেশন ব্যবহারের ফলে সেই কম্পোনেন্টগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। স্পেশালি ক্যামেরাতে যদি ওআইএস থাকে তাহলে ব্যবহার করবেনই না।
অনেক ফোনে আছে যেগুলোতে ভাইব্রেশন কাস্টুমাইস করা যায়, মানে ভাইব্রেশন কোন লেভেলের হবে সেটি কন্ট্রোল করা যায়। তাই আপনাদের যদি একান্ত ভাইব্রেশন দেয়ার প্রয়োজনই হয় তবে ভাইব্রেশন লেভেল টি কমিয়ে ইউস করা ভালো।
{ টেলিগ্রামের সিক্রেট টিক্স যা আপনি হয়ত জানেন না – জানতে আর্টিকেল টি পড়ে আসুন }
৬ . কম দামী মেমোরি কার্ড ইউস করা
এখন বাজারে ৩২ জিবি মেমোরি কার্ডও মাএ ২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। একটু ভেবে দেখেন, আপনার সামনে একজন যদি ৩২ জিবি মেমোরি কার্ড যদি ২০০ টাকায় বিক্রি করে এবং অন্যপাশে ৩২ জিবি মেমোরি ১৬০০ টাকায় বিক্রি করে তাহলে অবশ্যই আপনি ২০০ টাকার টা নিবেন। এই কম দামের মেমোরি কার্ডে উল্লেখ যোগ্য কিছু সমস্যা হয় যেগুলো হল :
- ১ . এই কম দামের মেমোরি কার্ড গুলোতে অনেক সময় ৩২ জিবি পাওয়া যায় না ।
- ২ . অল্প ক্ষমতা সম্পন্ন হওয়ায় ফোনে অনেক প্রসার পড়ে যাতে ফোনটি স্লো হয়ে যায়।
- ৩ . অনেক ম্যাল ওয়্যার বা ভাইরাস ডুকিয়ে দেয় যার ফলে ফোনটি অল্প কিছু দিনের মধ্যেই নস্ট হয়ে যায়।
অন্যদিকে কিছু প্রতারক আছে যারা ২০০ টাকার মেমোরি কার্ড আসল বলে ১৬০০ টাকায় বিক্রি করে তাই আপনারা যখন মেমোরি কার্ড কিনবেন তখন মেমোরি কার্ড সম্পর্কে ভালো করে জেনে নিবেন।
৭ . ফোন রিসেট দেওয়া
আমরা প্রতিনিয়ত ফোন ব্যবহার করতেই থাকি করতেই থাকি এবং আমরা চাই যে, আমাদের ফোন নতুন ফোনের মতো পারফরমেন্স হোক। কিন্তু এটা তো সব সময় সম্ভব হয় না। কারণ একটি ফোন হচ্ছে সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার কম্বেনেশন। দীর্ঘ দিন ফোন ব্যবহারের ফলে অনেক জাঙ্ক ফাইল তৈরি হতে থাকে। এই জাঙ্ক জমে জমে এক সময় ফোনটি স্লো হয়ে যায়। তাই আমার মনে হয় অব্যশই প্রতি ৩-৪ মাস পর পর ফোন রিসেট দেওয়া দরকার। তবে রিসেট দেয়ার আগে সব কিছু ব্যাকাপ নিয়ে নিবেন নাইলে রিসেট দেয়ার সাথে সাথে পারসোনাল সব ডাটা রিসেট হয়ে যাবে। আর এই রিসেট দিলে ফোন অবস্থিত যত জাঙ্ক ফাইল ছিলো সব রিমুভ হয়ে যাবে এবং ফোনটি ভালেঅ পারফরমেন্স দিবে।

৮ . ফোনের স্টোরেজ ইউস না করা
আমরা অনেকেই হয়ত মেমোরি কার্ড থাকা সত্তে ও ফোনের স্টোরেজ ইউস করে থাকি। এই ভুলটা আসলে আমরা সবাই করি। আমরা আমাদের মেমোরি কার্ডকে সব সময়ই একবারে খালি করে রাখি। আমাদের
সবাই এটাই ধারণা করেন যে, আমার ফোনে ৬৪gb মেমোরি তো আছেই আমি ৬৪ জিবি ইউজ করবো পরে এটা লোড হয়ে গেলে মেমোরি ইউস করবো। তবে একটা ফোনকে ঠিকমতো রান করার জন্য ফ্রি মেমোরি দরকার হয়। আপনি আপনার ফোনে বেশি মেমোরি দেখে যে পুরোপুরি লোড করে রাখবেন এটা কিন্তু ভালো নয়। এটি করলে ফোন তার সেরা পারফরমেন্সটি আপনাকে দিতে পারবে না। কিছু কিছু সময় এতে হ্যাং ধরে, বা হঠাৎ স্লো হয়ে যায়। তাই একটা ফোনকে ঠিকমতো রান করার জন্য ফ্রি মেমোরি কিন্তু দরকার।
আপনার যদি মেমোরি কার্ড না থাকে তাইলে ক্লাউডে আপনি ছবি বা ফাইল আপলোড করে রাখতে পারেন। এগুলা ফ্রি এতে আপনাকে কোন টাকা দিতে হবে না। আবার গুগল ড্রাইভ আছে সেটাতেও রাখতে পারেন। ১ টি ইমেইলে গুগল ১৫ জিবি ফ্রি স্টোরেজ দেয়। আপনি চাইলে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন। তবুও ফোনে চাপ কমাবেন যাতে ফোনটি আপনাকে বেস্ট পারফরমেন্স দিতে পারে।
৯ . বজ্রপাতের সময় কোন ইলেকট্রিক ডিভাইস চার্জ না দেয়া
বজ্রপাতের সময় চার্জ দিলে আসলে বজ্রপাত হলে অতিরক্ত ভোল্টেজ তারের মধ্যে দিয়ে আপনার ফোনে প্রবেশ করতে পারে যার ফলে আপনার ফোনের সার্কিট নস্ট হয়ে যাবে। এটা শুধুৃ মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে না যে কোন ইলেকট্রিক ডিভাইসে এ সমস্যা হতে পারে। ধরুণ : আপনি টিভি দেখতেছেন সেই সময় একটি বজ্রপাত হলো আর সেই বজ্রপাতের অতিরক্ত ভোল্টেজ যদি আপনার ঘরের তারে চলে আসে তাইলে আপনার টিভির সার্কিট, অন্যান্য কম্পনেট গুলো পুড়ে যাবে। তাই অনেক বড় বড় ইলেকট্রিশিয়ান রা বলে বজ্রপাতের সময় সকল প্রকার ইলেকট্রিক ডিভাইস প্লাগ অফ করে রাখতে যাতে অতিরক্ত ভোল্টেজ প্রবেশ না করতে পারে।
১০ . দরকার ছাড়া অন্যান্য অপসন গুলো অফ রাখা
অন্যান্য অপসন বলতে বুঝিয়েছি যে : ওয়াইফাই, ডাটা, লোকেশন, ব্লুটুথ। এগুলা প্রয়োজনের সময় অন রাখবেন যখন দরকার পড়বে না তখন আপনি অফ করে রাখবেন। অনেকে আছে যারা এই ভুলটা করে এতে আসলে হয় কি যে, আপনি চালাছেন না আপনার ফোনের স্ক্রিণ অফ কিন্তু ডাটা বা অন্যান্য অপসন চালু রাখার ফলে আপনার ফোনের ব্যাটারি কিন্তু আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যায়। এতে করে যেমন ব্যাটারি চার্জ কমে ঠিক সেভাবেই আপনার ব্যাটারির চার্জ ব্যাকাপ কমে যায়। তাই দরকারই বা কি এগুলো শুধু শুধু অন রাখার যখন ফোন ইউস করবেন তখন চালু করবেন পরে অফ করে রাখবেন। এতে করে আপনার ব্যাটারিও ভালো থাকলো আর আপনি বেশিদিন ফোনটাকে ইউস করতে পারবেন।
আশা করি মোবাইল ফোন ভালো রাখার ১০ টি টিপস গুলো আপনারা কাজে লাগাবেন এবং এই ভুল গুলো আর করবেন না। এই টিপস গুলো সহজ কিন্তু আমরা অনেকেই মানি বা করি না। অবশ্যই এই টিপস গুলো মানবেন এতে করে আপনার ফোন আরও দীর্ঘ দিন আপনাকে ভালো পারফরমেন্স দিবে।
আশা করি এই আর্টিকেল টি পড়ে আপনারা অনেক উপকৃত হয়েছেন যদি ভালো লেগে থাকে তাইলে আপনাদের বন্ধুদের সাথে সেয়ার করবেন।